Friday, April 25, 2025

দড়ি ছিঁড়ে দৌড় দেওয়া মহিষকে ধরতে মালিকের বিরামহীন ৩০ ঘণ্টা

  ২৫ এপ্রিল ২০২৫



এক জোড়া মহিষকে পুকুরে গোসল করাতে নামিয়েছিলেন মালিক। হঠাৎ জোড়া ভেঙে একটি মহিষ পুকুর থেকে উঠে দৌড় দেয়। সেটা গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের ঘটনা। সারা দিন মহিষটা এ গ্রাম থেকে সে গ্রামে দৌড়ে বেড়ায়। মালিক ধরতে পারেন না। এভাবে সারা রাত যায়। মহিষটি এক উপজেলা থেকে আরেক উপজেলায় যায়। শেষ পর্যন্ত আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার দুটি বিলের অন্তত ১০ বিঘা ভুট্টাখেত নষ্ট করার পরে দড়ির ফাঁদ পেতে গ্রামবাসী মহিষটাকে আটকাতে সক্ষম হন। ততক্ষণে মহিষের গুঁতায় ও লাথিতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আনারুল ইসলাম ও মাজেদুল ইসলাম নামের দুজনকে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আনারুল কোমরে আঘাত পেয়েছেন আর মাজেদুলের নাক ফেটে গেছে।

মহিষের মালিকের নাম এমদাদুল হক। তাঁর বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আরিপপুর গ্রামে। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে আরিপপুর মাঠে একটি সরকারি পুকুরে তিনি জোড়া বেঁধে দুটি মহিষকে গোসল করাতে নামান। হঠাৎ জোড়া ভেঙে দড়ি ছিঁড়ে একটি মহিষ দৌড়াতে শুরু করে। এমদাদুলও মহিষের পেছন পেছন দৌড়াতে শুরু করেন।

এমদাদুল হকের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহিষটা কিছুতেই ধরা দিচ্ছে না—এই খবর পেয়ে আত্মীয়স্বজনেরাও তাঁর সঙ্গে মহিষের পেছনে যেতে শুরু করেন। সারা দিন বাঘা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে মহিষটি রাতের বেলায় নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগর গ্রামের ভেতরে ঢুকে পড়ে। রাতের অন্ধকারে তাঁরা মহিষটার নিশানা আর খুঁজে পাননি। সারা রাত গ্রামের আশপাশে তাঁরা মহিষের অপেক্ষায় থাকেন। তিন-চারটি মোটরসাইকেল নিয়ে আরও কয়েকজন বিভিন্ন এলাকায় মহিষের খোঁজ করতে থাকেন।

শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে বাগাতিপাড়ার ভেতরভাগ গ্রামের লোকজন মহিষটাকে দেখতে পান। তখন থেকে এমদাদুল হক তাঁর লোকজন নিয়ে আবার মহিষটিকে ধরার চেষ্টা শুরু করেন। কিন্তু ধরতে গেলেই এক গ্রাম থেকে দৌড়ে আরেক গ্রামে চলে যায়। দুপুরের দিকে মহিষটি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার সীমানায় ঢুকে তাহেরপুর সড়ক দিয়ে এগোতে থাকে। কিছুদূর যাওয়ার পর পশ্চিম দিকে ঘুরে মহিষটি উপজেলার দইপাড়া ও দুলবপুর মাঠে ঢোকে। দুপুর ১২টা থেকে গ্রামবাসী মিলে মহিষটাকে ধরার চেষ্টা চালান। এই চেষ্টা করতে গিয়েই মহিষের হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মালিক ইমদাদুল হক ও তাঁর ছেলে সজলও রয়েছেন।

কোনো উপায় করতে না পেরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁরা রাজশাহী বন বিভাগের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের শরণাপন্ন হন। কিন্তু তারা জানিয়ে দেয়, এটা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কাজ, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। ইমদাদুল হকের ভাতিজা মো. শিলন পুঠিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগে যান। কিন্তু শুক্রবার বন্ধ থাকার কারণে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিসে ছিলেন না। তিনি ফোন নম্বর সংগ্রহ করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন, পুঠিয়া উপজেলায় এ রকম একটি মহিষ ধরার কোনো ব্যবস্থা তাঁদের নেই। চিড়িয়াখানায় এ ধরনের ব্যবস্থা আছে। তাঁদের কিছু করার নেই।

মো. শিলন প্রথম আলোকে বলেন, প্রশাসনের কোনো সহায়তা না পেয়ে তাঁরা গ্রামবাসীর সহযোগিতা চান। উপজেলার দইপাড়া ও দুলবপুর গ্রামের লোকজন মিলে বিকেল থেকে দড়ির ফাঁদ তৈরি করে মহিষটি ধরার চেষ্টা করেন। মহিষের হামলায় তাঁরা আহত হন। সন্ধ্যার একটু আগে তাঁরা মহিষটিকে ধরে ফেলেন। শিলন জানান, এই দুই দিনে মহিষের পেছনে ছুটতে ছুটতে তাঁরা ভীষণ ক্লান্ত হয়ে গেছেন। তাঁদের নাওয়া–খাওয়া নেই।

কী কারণে একটি মহিষ এ রকম আচরণ করতে পারে জানতে চাইলে পুঠিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নানা কারণে পশুদের এ রকম হতে পারে। যেমন অজান্তেই আগে কুকুরে কামড়ানোর কোনো ঘটনা যদি থাকে সে কারণে মহিষ খেপে যেতে পারে। কোনো অসুখের কারণেও এমনটি হতে পারে। নির্দিষ্ট করে এটা বলা যায় না।

জাহিদুল হত্যা: প্রধান আসামি মেহরাজ পাঁচ দিনের রিমান্ডে

 ২৫ এপ্রিল ২০২৫


ঢাকায় বেসরকারি প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম (পারভেজ) হত্যা মামলার প্রধান আসামি মেহরাজ ইসলামের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত আজ শুক্রবার বিকেলে এ আদেশ দেন।

পুলশ ও আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জাহিদুল ইসলাম হত্যা মামলায় মেহরাজ ইসলামকে আদালতে হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে পুলিশ। আসামিপক্ষ থেকে রিমান্ডের আবেদন নাকচের আবেদন করা হয়। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে মেহরাজ ইসলামের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত বুধবার গাইবান্ধা থেকে মেহরাজকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, জাহিদুল ইসলাম হত্যা মামলায় ১৬৪ ধারায় গতকাল জবানবন্দি দেন মো. মাহাথির হাসান (২০) নামের এক আসামি। এ ছাড়া আল কামাল শেখ ওরফে কামালও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

মাহাথির হাসান জবানবন্দিতে বলেছেন, হত্যার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন। পূর্বপরিচিত দুজন নারী শিক্ষার্থী ফোন করে অভিযোগ করেছিলেন যে জাহিদুল তাঁদের দেখে অশোভন ভঙ্গি ও হাসাহাসি করেছেন। তাই তিনিসহ তিনজন ঘটনাস্থলে যান। পরে ওই দুই নারী শিক্ষার্থীর পূর্বপরিচিত মেহেরাজ ইসলামসহ অন্যরা জাহিদুলকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান।

পুলিশ বলছে, ১৯ এপ্রিল বিকেলে রাজধানীর বনানীতে প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জাহিদুল ও তাঁর বন্ধু তরিকুল ইসলামের ওপর হামলা চালান। হামলায় গুরুতর আহত জাহিদুলকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এ ঘটনায় জাহিদুলের ফুফাতো ভাই হুমায়ুন কবীর বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর বনানী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

দিনাজপুরে বন্ধ শয়নকক্ষে তিন-চার দিন ধরে ঝুলছিল নারীর মরদেহ

  ২৫ এপ্রিল ২০২৫

দিনাজপুরের হাকিমপুরে নিজ শয়নকক্ষে আড়ার সঙ্গে দড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকা অবস্থায় সাদিয়া আক্তার (২৫) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে পৌর শহরের মধ্য বাসুদেবপুর মাঠপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, মরদেহটি তিন–চার দিন ধরে ঝুলছিল।

নিহত সাদিয়া আক্তার জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার রতনপুর গ্রামের আবদুস সালামের মেয়ে। তাঁর স্বামীর নাম সাগর হোসেন। পারিবারিক কলহের কারণে সাদিয়া আক্তার এক মাস ধরে হাকিমপুর পৌর শহরের মাঠপাড়া এলাকায় টুলু নামের এক ব্যক্তির বাসায় একা ভাড়া থাকতেন স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকেলে হাকিমপুর পৌর শহরের মধ্য বাসুদেবপুর মাঠপাড়া এলাকায় একটি বাসার শয়নকক্ষে এক নারীর মরদেহ ঝুলছে এমন সংবাদ পাওয়া যায়। পরে পুলিশ গিয়ে ওই বাসা থেকে সাদিয়া আক্তার নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ থেকে পচা গন্ধ বের হচ্ছিল। ওই নারী তিন-চার দিন আগে মারা যান বলে ধারণা পুলিশের।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা যায়, এক প্রতিবেশী বেলা তিনটার দিকে সাদিয়া আক্তারের খোঁজ নিতে তাঁর বাসায় আসেন। এ সময় ওই প্রতিবেশী বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। পরে জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরের ভেতরে সাদিয়াকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখা যায়। পরে বিষয়টি ওই প্রতিবেশী আশপাশের বাড়ির লোকজনকে জানান। স্থানীয় ব্যক্তিরা খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাসার দরজা ভেঙে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে হাকিমপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, শুক্রবার বিকেলে পৌর শহরের মধ্য বাসুদেবপুর মহল্লার একটি ভাড়া বাসা থেকে সাদিয়া আক্তার নামের এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা রয়েছে। মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারীর মরদেহ ঘরে তিন–চারদিন ধরে ঝুলছিল। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হবে। ওই নারীর মৃত্যু রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।


দৌলতদিয়ায় নদীতে পড়া থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ৪০ বাসযাত্রী

 ২৫ এপ্রিল ২০২৫




রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ফেরি থেকে সড়কে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অল্পের জন্য পদ্মায় পড়ার উপক্রম হয় যাত্রীবাহী বাসের। এ সময় বাসের পেছনের দুই চাকায় দুটি মোটরসাইকেল আটকে যাওয়ায় নদীতে পড়া থেকে রক্ষা পায়। অল্পের জন্য রক্ষা পান ৪০ বাসযাত্রী। আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ঘাটে ফেরি থেকে নেমে সংযোগ সড়কে উঠছিল গোপালগঞ্জগামী ইসলাম পরিবহনের একটি বাস। ফেরির পন্টুন থেকে কয়েক গজ সামনে যাওয়ার পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত পেছনের দিকে যেতে থাকে। এ সময় নদী পার হওয়ার জন্য পন্টুনে ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিলেন অনেকে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মোটরসাইকেল দুটি বাসের নিচে চলে যায়। একজন দ্রুত সরে গেলেও মোটরসাইকেলসহ একজন বাসের নিচে চলে যান। বাসটির পেছনের দুই চাকার নিচে মোটরসাইকেল দুটি আটকে গেলে বাসটি আর পেছনে যেতে পারেনি। এ সময় স্থানীয় লোকজন দ্রুত চালককে উদ্ধার করতে পারলেও মোটরসাইকেল দুটি চাকার নিচে আটকে দুমড়েমুচড়ে যায়।

মাদারীপুর থেকে আসা ঢাকাগামী আহত মোটরসাইকেল আরোহী মিলন হাওলাদার বলেন, ‘পন্টুনে মোটরসাইকেল রেখে টিকিট কাটতে যাই। পন্টুনের কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে গাড়ির কাছে আসতেই বাসটি আমাদের ওপর উঠে যায়। এ সময় চাকায় আটকে যাওয়ায় বাস আর পেছনে যেতে পারেনি। মোটরসাইকেলে না আটকালে যাত্রীবোঝাই বাসটি সরাসরি নদীতে পড়ে যেত।’

বাসযাত্রী সেফা মুখার্জি বলেন, ‘আমরা ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জে যাচ্ছিলাম। ফেরি থেকে নেমে সড়কে ওঠার সময় হঠাৎ করে বাসটি পেছনের দিকে যেতে থাকে। এ সময় অনেক লোকজন চিৎকার করতে থাকলে দ্রুত নেমে দেখি, বাসের নিচে দুটি মোটরসাইকেলসহ যাত্রী আটকে আছে। বাসের চাকায় মোটরসাইকেল না আটকালে নদীতে চলে যেত। এতে প্রাণহানি ঘটতে পারত।’

রাজবাড়ী আহ্লাদীপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম শেখ বলেন, বাসের পেছনের দুই চাকার নিচে দুই মোটরসাইকেল না আটকালে বাসটি সরাসরি পদ্মা নদীতে চলে যেত। মোটরসাইকেল দুটি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অন্তত ৪০ বাসযাত্রী প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। বাসচালক ও সহকারী পলাতক। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্যানিটারি ন্যাপকিন সর্বোচ্চ কতক্ষণ ব্যবহার করবেন ?

  ২৫ এপ্রিল ২০২৫


মাসিকের সময় কাপড় ব্যবহার অস্বাস্থ্যকর। স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করা ভালো, তবে তা ব্যবহারের স্বাস্থ্যকর উপায় জানা আবশ্যক। নাহলে সহজেই হতে পারে জীবাণুর সংক্রমণ। একটি স্যানিটারি ন্যাপকিন কোনো অবস্থাতেই ৬ ঘণ্টার বেশি ব্যবহার করা যাবে না। এই সময়ের ভেতরে তা খুব একটা ময়লা না হলেও অবশ্যই বদলে ফেলতে হবে। কৈশোর থেকেই মাসিকের সময়কার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এ বিষয়ে নানান পরামর্শ দিলেন ঢাকার স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট ফারজানা রশীদ।

ব্যবহারের আগে

•স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের আগে মেয়াদ দেখে নিন।

•ব্যবহারের আগে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন। স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের আগে ত্বক পরিষ্কার করে নিন।

•প্যাকেট খোলার পর উন্মুক্ত অবস্থায় রেখে দিলে (এমনকি ড্রয়ারের মতো আবদ্ধ স্থানেও) ধুলাময়লা পড়তে পারে। এভাবে উন্মুক্ত অবস্থায় রাখা ন্যাপকিন ব্যবহার করবেন না।

ব্যবহারের আরও বিধি

মাসিকের প্রথম বা শেষ দিকে অনেকেরই রক্তক্ষরণ কম হয়। এ সময় সাধারণত ছোট আকৃতির স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করা হয়। তবে রক্তক্ষরণ কম হচ্ছে বলে কিন্তু একটা ন্যাপকিন দীর্ঘসময় পরে থাকা যাবে না। ব্যবহারের ছয় ঘণ্টা পেরোনোর আগে যদি ন্যাপকিনটা শরীর থেকে সরানো বা খোলা হয়, তাহলেও সেটা আবার না পরাই ভালো। আর ছয় ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে অবশ্যই ফেলে দিন। আবার অধিক রক্তক্ষরণ হলে বড় আকৃতির ন্যাপকিনেও অল্প সময়েই ভেজা ভাব অনুভূত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গেই ওই ন্যাপকিন বদলে ফেলতে হবে।

Thursday, April 24, 2025

কথা বলা ও ইন্টারনেট সেবায় মধ্যস্বত্বভোগী কমবে, গ্রাহকের লাভ কী

  ২৪ এপ্রিল ২০২৫


কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহার অর্থাৎ টেলিযোগাযোগ সেবায় মধ্যস্বত্বভোগী কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) একটি খসড়া নীতিমালা করেছে, যেখানে টেলিযোগাযোগ সেবার বিভিন্ন স্তরে লাইসেন্সের সংখ্যা কমবে।

দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে অন্তত ২২ ধরনের লাইসেন্স রয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে সেবাদাতাদের কাছে সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁরা টেলিযোগাযোগ–ব্যবস্থায় অন্য লাইসেন্সধারীদের ভূমিকার বিষয়টিও সামনে আনতেন। তাঁরা বলতেন, অন্য লাইসেন্সধারীদের কাছ থেকে ভালো মানের সেবা না পেলে গ্রাহককে উন্নত সেবা দেওয়া কঠিন।

যেমন ইন্টারনেট সেবার ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে ব্যান্ডউইডথ আসে সাবমেরিন কেব্‌ল ও ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল কেব্‌লের (আইটিসি) মাধ্যমে। সেখান থেকে ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ের (আইআইজি) মাধ্যমে মোবাইল অপারেটর ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতারা ব্যান্ডউইডথ নেয়। ব্যান্ডউইডথ সঞ্চালনের তার বা অপটিক্যাল ফাইবার কেব্‌ল স্থাপন করে নেশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) অপারেটররা। মোবাইল অপারেটরদের জন্য টাওয়ার বা বেজ ট্রান্সসিভার স্টেশন বসানোর কাজ করে টাওয়ার কোম্পানি।

কথা বলার ক্ষেত্রে এক মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে অন্য অপারেটরের কল আদান-প্রদান হয় ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ বা আইসিএক্সের মাধ্যমে। অন্যদিকে এক আইএসপি থেকে আরেক আইএসপির ডেটা ট্রাফিক আদান-প্রদান করে নিক্স (ন্যাশনাল ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ)।

টেলিযোগাযোগ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গ্রাহক পর্যায়ে সেবাদাতারাই টেলিযোগাযোগ–ব্যবস্থার বেশির ভাগ সেবা দিতেন। যেমন টাওয়ার বসানো ও আইসিএক্স পরিচালনার কাজ মোবাইল অপারেটরগুলো নিজেরাই করত। পরে একচেটিয়া ব্যবসা ভাঙার কথা বলে আলাদা লাইসেন্সিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়।

মূলত জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নানা ধরনের লাইসেন্সিং চালু করে ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের ব্যবসা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার টেলিযোগাযোগ খাতে বেশ কিছু সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে, যার একটি হলো লাইসেন্সের স্তর কমিয়ে আনা। এর অংশ হিসেবে বিটিআরসি আন্তর্জাতিক দূরপাল্লার টেলিযোগাযোগ সেবা নীতিমালা (আইএলডিটিএস) ২০১০–কে সংস্কার করে নতুন একটি খসড়া করেছে। সোমবার রাতে তা কমিশনের ওয়েবসাইটে মতামত প্রদানের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।

খসড়াটির নাম ‘নেটওয়ার্ক অ্যান্ড লাইসেন্সিং রেজিম রিফর্ম পলিসি ২০২৫’। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে মতামত দেওয়া যাবে।

এই খসড়ায় আইজিডব্লিউ, আইআইজি, আইসিএক্স ও নিক্স সেবায় আলাদা লাইসেন্স–ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মানে হলো গ্রাহক পর্যায়ের সেবাদাতারাই টেলিযোগাযোগের মধ্যবর্তী এসব সেবা পরিচালনা করতে পারবেন।

বিটিআরসির কমিশনার (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগ) এবং এই সংস্কার কমিটির প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ইকবাল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বাস্তবতা বিবেচনায় আইএলডিটিএস নীতির সংস্কার করা হচ্ছে। এই খসড়া তৈরিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। সবার মতামত নিয়েই এটি চূড়ান্ত করা হবে।

বাংলাদেশে মুঠোফোন গ্রাহকের সংখ্যা ১৮ কোটি ৬৫ লাখ। মুঠোফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন ১১ কোটি ৬০ লাখ। আর ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গ্রাহক ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি।

মুঠোফোনে কথা বলার ক্ষেত্রে কলড্রপ, নেটওয়ার্ক না পাওয়া, কথা শুনতে সমস্যা হওয়া এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে গতি কম ও নেটওয়ার্ক না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ক্ষেত্রেও অভিযোগ একই ধরনের। দীর্ঘ সময় ধরেই এসব বিষয় আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি আবার ইন্টারনেটের দাম কমানোর দাবি রয়েছে।

বিটিআরসি এমন পরিস্থিতিতে আইএলডিটিএস নীতিমালা সংস্কারের উদ্যোগ নিল। সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিটিআরসি নীতিমালার খসড়ায় বলেছে, আইপি (ইন্টারনেট প্রটোকল) ও ভয়েস আন্তসংযোগের জন্য কাঠামোগতভাবে আলাদাকরণের কোনো যুক্তি নেই। এ ধরনের আলাদা আন্তসংযোগ খরচ বৃদ্ধি করে এবং মান খারাপ হয়।

বিটিআরসি খসড়ায় ২২ ধরনের লাইন্সেসিং–ব্যবস্থা কমিয়ে তিনটি স্তরে নিয়ে আসার কথা বলছে। যা হলো অ্যাকসেস নেটওয়ার্ক সার্ভিস প্রোভাইডার (এএনএসপি), ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড কানেকটিভিটি সার্ভিস প্রোভাইডার (এনআইসিএসপি) এবং ইন্টারন্যাশনাল কানেকটিভিটি সার্ভিস প্রোভাইডার (আইসিএসপি)। এর আওতায় মোট ৪টি লাইসেন্স ও দুই ধরনের তালিকাভুক্তির ব্যবস্থা থাকবে।

এএনএসপি ব্যবস্থায় সেলুলার মোবাইল সেবা ও ফিক্সড টেলিকম (তারযুক্ত) সেবা আলাদা লাইসেন্স নেবে। তারা গ্রাহক পর্যায়ে সংযোগ দেবে। ফাইবার নেওয়া এবং টাওয়ারের সেবা তারা এনআইসিএসপি থেকে নেবে। সব ধরনের আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জন্যও আইসিএসপির সঙ্গে যুক্ত থাকবে। ভয়েস এবং ডেটা ট্রাফিক প্রবাহের ক্ষেত্রে এএনএসপিরা নিজস্ব ব্যবস্থার মাধ্যমে অথবা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক আন্তসংযোগের ব্যবস্থা রাখবে। এই ব্যবস্থায় এএনএসপিরা ‘অ্যাকটিভ শেয়ারিংয়ে’ (অবকাঠামো ভাগাভাগি) যেতে পারবে। তবে তরঙ্গ ভাগাভাগি করার জন্য বিটিআরসির অনুমতি নিতে হবে।

‘দেশীয় প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নেই’

বিভিন্ন ধরনের লাইসেন্সের আওতায় এত দিন দেশীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করে আসছিল। লাইসেন্সের স্তর কমিয়ে ফেলায় অনেকের টিকে থাকা কঠিন হবে। কারণ, বড় ও বিপুল আর্থিক সক্ষমতাধারী প্রতিষ্ঠানের কাছে তারা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না বলে মনে করেন অনেকে।

যেমন দেশে এখন ২৪টির মতো আইজিডব্লিউ অপারেটর রয়েছে। আইজিডব্লিউ অপারেটর ফোরামের (আইওএফ) সভাপতি আসিফ রব্বানী প্রথম আলোকে বলেন, প্রস্তাবিত খসড়ায় দেশীয় প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নেই। বহুজাতিক কোম্পানির হাতে এই সেবা খাত তুলে দেওয়া হচ্ছে। আইজিডব্লিউ হিসেবে না থাকলেও তাদেরকে অন্য কোনো স্তরে স্থানান্তরের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।

খসড়ার বিষয়ে আইআইজি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইআইজিএবি) সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


৫০০ টাকায় ১০ এমবিপিএসে গ্রাহক কত গতি পাবেন

 ২৪ এপ্রিল ২০২৫


দেশের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতারা ইন্টারনেটের গতি বাড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী, গ্রাহক ৫০০ টাকায় ১০ এমবিপিএস (মেগাবিট পার সেকেন্ড) গতি পাবেন।

কিন্তু গ্রাহক–অভিজ্ঞতা ভিন্ন। গ্রাহকের অভিযোগ, ৫০০ টাকার প্যাকেজে ইন্টারনেটের যে গতির কথা বলা হয়, তা আদতে পাওয়া যায় না।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ২০২১ সালে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সর্বনিম্ন দাম ৫০০ টাকা করার জন্য নির্দেশ দেয়। সে ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের গতি নির্ধারণ করা হয় ৫ এমবিপিএস।

চার বছর পর এসে এই প্যাকেজের (৫০০ টাকার) ইন্টারনেটের গতি দ্বিগুণ (১০ এমবিপিএস) করার ঘোষণা দিল ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)। গত শনিবার এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

২০২১ সালের জুনে বিটিআরসি ‘এক দেশ এক রেট’ নীতি চালু করে। এই নীতির আওতায় সারা দেশে ইন্টারনেট সেবাদাতাদের একই দামে সংযোগ দিতে বলা হয়। এতে তিনটি প্যাকেজ রাখা হয়। প্রথম প্যাকেজের মূল্য মাসে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা, গতি ৫ এমবিপিএস। দ্বিতীয় প্যাকেজের মূল্য মাসিক ৮০০ টাকার মধ্যে, গতি ১০ এমবিপিএস। আর তৃতীয় প্যাকেজের মূল্য মাসিক ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে, গতি ২০ এমবিপিএস। সম্প্রতি বিটিআরসি জানিয়েছে, এই ‘এক দেশ এক রেট’ নিয়ে আবার কাজ হবে।

দেশের বিভিন্ন স্থানের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের (আইএসপি) সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেউ ইতিমধ্যে নতুন ঘোষিত গতি (১০ এমবিপিএস) বাড়িয়েছে। কেউ শিগগির তা বাস্তবায়ন করবে।

এখন প্রশ্ন হলো, ৫০০ টাকায় ১০ এমবিপিএসের যে ঘোষণা এসেছে, গ্রাহক কি আসলেই এই গতির ইন্টারনেট পাবেন?

দড়ি ছিঁড়ে দৌড় দেওয়া মহিষকে ধরতে মালিকের বিরামহীন ৩০ ঘণ্টা

    ২৫ এপ্রিল ২০২৫ এক জোড়া মহিষকে পুকুরে গোসল করাতে নামিয়েছিলেন মালিক। হঠাৎ জোড়া ভেঙে একটি মহিষ পুকুর থেকে উঠে দৌড় দেয়। সেটা গতকাল বৃহস্পতিব...